আমি গ্রামের মেয়ে।ঐ
যে ফটকি নদীর ধারে আমাগের গ্রাম।সেই ছোটকাল থেহে দেহে আসতিচি যাগের ডুঙা, নৌকো আছে
তারা মাছ মারে সংসার চালায়।আর কেউ কেউ মাছের খরচের টাহা বাচানোর জন্যি মাছ মারে।অবশ্যি
গ্রামের কিছু ঘর বাদে সব ঘরেই মাছ ধরার কিছু না কিছু ছিল।যাগের মাছ ধরার কোন জাল, বড়শি
,ডুঙা, নৌকো ছিল না তাগের মদ্যি আমাগের বাড়ি এটটা।তয় মিছে কবনা মাছ ধরা দেকতি কিন্তু
ভালই লাগত।মনে মনে কতাম আমাগের যদি একখান জাল থাকত তালি পুটি মাছ খাতি পারতাম।বাবারে
কয়েকবার জাল কিনার কতাও কইছি বাবা কইত মাছ
মারা লাগবে না তুমাগের কিনে খাওয়াবো স্কলে যাও।সত্যি কতা হল বাবার মাছ মারার
সময় ছিল না কারন তিনি তো স্কুল মাস্টার ছিল।
আমগের গ্রাম থেকে
২ মাইল দুরে ভাবনহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আমার বাবা পড়াত। আমিও ওই স্কুলে পড়তাম।স্কুলে
যওয়া আসার কষ্টের কতা আর কি কব!বর্ষাকালে এক হাটু কাদা আর অন্য সময় হাটু সমান ধুলো
ভাঙে যায়ে খেয়া নৌকোর জন্যি খেয়া ঘাটে বসে থাকতি হত। আর খেয়া ওই পারে থাকলি কানাই
পাটনিরে কত গালাগলি দিছি। সবাই মিলে কইছি এই বতরে কানাই ধান আনতি গেলি কেউ দিবানা।তয়
খিয়া ঘাটে বসে দেখতাম কার ভেসালে কত বেশি মাছ উঠতিছে।বিয়ান বেলার সুয্যির আলোয় সাদা
চকচকে পুটি মাছগুলা ভালই লাগত।আমাগের গাঙে ইলিশ মাছ পাওয়া যায় না তয় টেংরা পুটি পাবদা
বোয়াল আরো মেলা রহম মাছ পওয়া যায়। অন্য এলাকার মানষির কাছে শুনিছি আমাগের গাঙের পুটি
মাছে নাকি খুব স্বাদ।
চৈত মাসে আসে
পশের গ্রামে চৈত পুজো হত।সং সেজে গ্রামে গ্রামে পালা করে বেড়াত। বাবার কড়া নির্দেশ
আগে পড়া শেষ করতি হবে তারপর সং পালা।কি আর করা স্কুল তে ফিরে আসে তাঢ়াতাড়ি পড়া মুখস্ত
করে খোজ নিতাম আজ কোন গ্রামের পালা।মাঝে মাঝে পড়া মুখস্ত হলিও বাবা যাতি দিত না তখন
চুরি করে ঠাকুমার সাথে চলে যাতাম। পরদিন বিয়ানে পিঠির উপর কিছু পড়ত তাতে কি আজকে আবার
অন্য গ্রাম।এইভাবে সারা মাস চলার পরে চৈত্র সংক্রান্তি পুজো হত। আর পেহেলা বৈশাখের
দিন বাড়ি বাড়ি বাস্ত পুজো হত। বাস্তু পুজোয় নতুন মটির হাড়িতে পায়েশ রান্না হত্ ।ওইডা
ছিল বাস্তু পুজোর প্রসাদ।আর বাড়িতে কিছু বাতাসা কদমা রাখা হত । বছরের প্রথম দিন কেও
বাড়িতে এলে তারে মুখ মিষ্টি করানোর জন্যি।তয় এইদিন সবাই একটু ভাল মন্দ খাওয়ার চেষ্টা
করত। সবাই কত বছরের পয়লা দিন ভাল খইলে নাকি সারা বছর তাদের ভাল যাবে।
ম্যট্রিক পাশ
করার পর গ্রাম ছাড়লাম। ওমা শহরে আসে দেহি শহরের মনষিরা পয়লা বোশেখে পান্তা ইলিশ খায়।
ইডা নাকি বাঙালির রীতি। অথচ গ্রামে আমি সারা বছর শীতকাল বাদে পান্তা ভাত খাতি দেহিছি।
কি আর করা শহরে যহন আইছি এগের সাথে তো তাল মিলায়ে চলতি হবে। পেত্যেক বছর দেহি চৈত মাসের
মাঝামাঝি সময় ইলিশ মাছের দাম বাড়ে যায়। তাও মানষি কিনে খায়। মনে মনে কই এগের কত টাহা
………!এ বছর আবার সরকার আইন করল ইলিশ ছাড়া পয়লা বোশেখ।তয় আমি কিন্তু এবছরও খাব।দুই মাস
আগে আমার উনি এক জোড়া ইলিশ মাছ আনছিল।আমি তার থেকে কয়েক টুকরো ফ্রিজে সারে রাখিছি ।কাল
বিয়ানে পান্তা ভাতের সাথে ভাঝে খাব। কেউ আসবেন না। টোনাটুরি সংসার তো………….. মাছ সীমিত।
তয় সবাইরে নববর্ষের শুভেচ্ছা্।
No comments:
Post a Comment